ইসলামের তালাকের সঠিক পদ্ধতি কী?
ইসলামের তালাক সঠিক পদ্ধতি
- বদ্ধনমুক্ত হওয়া।
- খাপ থেকে বের হওয়া
- চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইত্যাদি
- ইমাম রাগীভ ইস্পাহানী বলেন: গিট মুক্ত করা বা পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাওয়া
- আরবীতে বলা হয়: أُطْلِقَ الْأسِيْرُ ‘বন্দী মুক্ত হয়েছে’।
২. ইসলামী আইনের ভাষায় তালাক অর্থ:
- ১. স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করা।
- ২ .কিছু শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে বিবাহের আইনগত ভিত্তি বিনষ্ট করা।
৩. তালাকের পদ্ধতি :
(১) স্ত্রীকে তার ঋতুমুক্তির পর পবিত্র অবস্থার শুরুতে মিলন ছাড়াই স্বামী প্রথমে এক তালাক দিবে। অতঃপর সহবাসহীন অবস্থায় তিন ঋতুর ইদ্দত অতিক্রান্ত হওয়ার পূর্বে স্বামী স্ত্রীকে রাজ‘আত করতে পারে। অর্থাৎ ফিরিয়ে নিতে পারে। কিন্তু ইদ্দতকাল শেষ হওয়ার পরে ফেরত নিতে চাইলে তাকে উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে নতুন বিবাহের মাধ্যমে ফেরত নিতে হবে। ইদ্দতকালে স্ত্রী স্বামীগৃহে অবস্থান করবে। অবস্থানকালে স্বামী স্ত্রীকে খোরপোষ দিবে। এটিই হ’ল তালাকের সর্বোত্তম পন্থা।
(২) সহবাসহীন তোহরে প্রথম তালাক দিয়ে ইদ্দতের মধ্যে পরবর্তী তোহরে ২য় তালাক দিবে এবং ইদ্দতকাল গণনা করবে। অতঃপর পরবর্তী তোহরের শুরুতে তৃতীয় তালাক দিবে ও ঋতু আসা পর্যন্ত সর্বশেষ ইদ্দত পালন করবে। তৃতীয়বার তালাক উচ্চারণ করলে স্ত্রীকে আর ফেরৎ নেওয়া যাবে না। অতএব ২য় তোহরে ২য় তালাক দিলে ৩য় তোহরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এখানেও পূর্বের ন্যায় যাবতীয় বিধান বহাল থাকবে (বাক্বারাহ ২/২২৯; তালাক ৬৫/১)। ইসলামের সোনালী যুগে এই তালাকই চালু ছিল। যেমন আল্লাহ স্বীয় রাসূলকে সম্বোধন করে বলেন,
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَآءَ فَطَلِّقُوْهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ وَأَحْصُوا الْعِدَّةَ وَاتَّقُوا اللهَ رَبَّكُمْ لاَ تُخْرِجُوْهُنَّ مِنْ بُيُوْتِهِنَّ وَلاَ يَخْرُجْنَ إِلاَّ أَنْ يَأْتِيْنَ بِفَاحِشَةٍ مُّبَيِّنَةٍ وَتِلْكَ حُدُوْدُ اللهِ وَمَنْ يَّتَعَدَّ حُدُوْدَ اللهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ لاَ تَدْرِيْ لَعَلَّ اللهَ يُحْدِثُ بَعْدَ ذَلِكَ أَمْراً µ (الطلاق ১)-
‘হে নবী! যদি আপনি স্ত্রীদের তালাক দিতে চান, তাহ’লে ইদ্দত অনুযায়ী তালাক দিন এবং ইদ্দত গণনা করতে থাকুন। আপনি আপনার প্রভু সম্বন্ধে হুঁশিয়ার থাকুন। সাবধান তালাকের পর স্ত্রীদেরকে গৃহ হ’তে বিতাড়িত করবেন না, আর তারাও যেন স্বামীগৃহ ছেড়ে বহির্গত না হয়। অবশ্য তারা যদি খোলাখুলিভাবে ব্যাভিচারে কাজে লিপ্ত হয়, তাহ’লে স্বতন্ত্র কথা। এগুলি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমারেখা। যে ব্যক্তি উক্ত সীমারেখা লংঘন করে, সে নিজের উপরে যুলুম করে। কেননা সে জানে না যে, তালাকের পরেও আল্লাহ কোন (সমঝোতার) পথ বের করে দিতে পারেন’ (সূরা আত্ তালাক্ব, ৬৫:১)।
উক্ত আয়াতের তাৎপর্য এই যে, তালাক হ’ল মূলতঃ ইদ্দতের তালাক, আকস্মিক বা যুগপৎ তালাক নয়। স্বামী-স্ত্রীকে অবশ্যই নির্ধারিত ইদ্দত গণনা করতে হবে। এজন্য কমপক্ষে তিন ঋতু মুক্তির তিন মাস স্বামী অবকাশ পাবেন যে, তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ঘর করতে পারবেন কি-না। এছাড়াও স্ত্রীকে স্বামীগৃহেই অবস্থান করতে হবে। এর দ্বারা উভয়কে পুনর্মিলনের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, এগুলি হ’ল আল্লাহকৃত ‘হুদূদ’ বা সীমারেখা, যা অতিক্রম করা নিষিদ্ধ।
৪. একত্রে তিন তালাকের বিধান কী?
তালাক দিতে হবে তিন স্তরে। এটি একত্রে দেওয়ার বিধান নয়। নিয়মের ব্যত্যায় ঘটিয়ে অনেকে আবেগের বশে: একত্রে তিন তালাক দিয়ে থাকেন। আবার ভূল বুঝে স্ত্রীকে ফিরে পাবার জন্য আলেমদের কাছে মাসআলা খুজতে থাকেন। ইসলামে নিয়ম না মানলে কোন কাজ সঠিকভাবে পালন হওয়ার কোন সুযোগ নেই। যেমন কেউ একত্রে পাচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করে নিতে পারে না। তাকে ধাপে ধাপে দৈনিক পাচবার সময়মত সালাত আদায় করতে হবে। ঠিক তেমনি উল্লেখিত কোরানের বিধান অনুসরণ করে তিনটি ধাপে তালাক দিতে হবে।
বিভিন্ন ফিক্বহ গ্রন্থে তালাককে আহসান, হাসান ও বিদ‘আত তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং কুরআন-হাদীছে বর্ণিত উপরোক্ত তালাক বিধানকে ‘সুন্নী তালাক’ ও আবিষ্কৃত একত্রিত তিন তালাককে ‘বেদ‘ঈ তালাক’ নামে অভিহিত করা হয়েছে (হেদায়া ২/৩৫৪-৫৫)। একজন মুসলমান ‘সুন্নাত’ মানতে পারে, কিন্তু কোন অবস্থাতেই ‘বিদ‘আত’ মানতে পারে না। কেননা বিদ‘আতের একমাত্র পরিণাম হ’ল জাহান্নাম। অথচ বিদ‘আতী তালাককে আইনসিদ্ধ করার মাধ্যমে মুসলিম সমাজে পাপের পথ খুলে দেওয়া হয়েছে।
৫. আল কুরআনে তালাক সংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণ:
৫.১: তালাকের ইচ্ছা করার পর তা থেকে ফিরে আসা প্রসংগে:
لِّلَّذِينَ يُؤْلُونَ مِن نِّسَائِهِمْ تَرَبُّصُ أَرْبَعَةِ أَشْهُرٍ ۖ فَإِن فَاءُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
৫.২: বিনা কারণে তালাক দেয়া আল্লাহর অপছন্দ-কারণ আল্লাহ সব জানেন:
وَإِنْ عَزَمُوا الطَّلَاقَ فَإِنَّ اللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيم
আর যদি তারা তালাক দেবার সংকল্প করে তাহলে জেনে রাখো আল্লাহ সবকিছু শোনেন ও জানেন।(সূরা বাকারাহ,২:২২৭)
৫:৩: তালাক হলেও সন্তানের মর্যাদা রক্ষা করা জরুরী-বাবা মায়ের তালাকের কারণে সন্তানকে বিপদে ফেলা যাবে না:
وَالْمُطَلَّقَاتُ يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ ۚ وَلَا يَحِلُّ لَهُنَّ أَن يَكْتُمْنَ مَا خَلَقَ اللَّهُ فِي أَرْحَامِهِنَّ إِن كُنَّ يُؤْمِنَّ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۚ وَبُعُولَتُهُنَّ أَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِي ذَٰلِكَ إِنْ أَرَادُوا إِصْلَاحًا ۚ وَلَهُنَّ مِثْلُ الَّذِي عَلَيْهِنَّ بِالْمَعْرُوفِ ۚ وَلِلرِّجَالِ عَلَيْهِنَّ دَرَجَةٌ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
তালাক প্রাপ্তাগণ তিনবার মাসিক ঋতুস্রাব পর্যন্ত নিজেদেরকে বিরত রাখবে ৷ আর আল্লাহ তাদের গর্ভাশয়ে যা কিছু সৃষ্টি করেছেন তাকে গোপন করা তাদের জন্য বৈধ নয় ৷ তাদের কখনো এমনটি করা উচিত নয়, যদি তারা আল্লাহও পরকালে বিশ্বাসী হয়, তাদের স্বামীরা পুনরায় সম্পর্ক স্থাপনে প্রস্তুত হয়, তাহলে তারা এই অবকাশ কালের মধ্যে তাদেরকে নিজের স্ত্রী হিসেবে ফিরিয়ে নেবার অধিকারী হবে ৷ নারীদের জন্যও ঠিক তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার আছে যেমন পুরুষদের অধিকার আছে তাদের ওপর ৷ তবে পুরুষদের তাদের ওপর একটি মর্যাদা আছে ৷ আর সবার ওপরে আছেন আল্লাহ সর্বাধিক ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারী, বিচক্ষণ ও জ্ঞানী । (সূরা বাকারাহ,২:২২৮)
৫:৪: তালাকের প্রথম ও দ্বিতীয় স্তর:
الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ ۗ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
তালাক দু’বার ৷ তারপর সোজাসুজি স্ত্রীকে রেখে দিবে অথবা ভালোভাবে বিদায় করে দেবে৷ আর তাদেরকে যা কিছু দিয়েছো বিদায় করার সময় তা থেকে কিছু ফিরিয়ে নেয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয় ৷ তবে এটা স্বতন্ত্র, স্বামী-স্ত্রী যদি আল্লাহ নির্ধারিত সীমারেখা রক্ষা করে চলতে পারবে না বলে আশংকা করে, তাহলে এহেন অবস্থায় যদি তোমরা আশংকা করো, তারা উভয়ে আল্লাহ নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থান করতে পারবে না , তাহলে স্ত্রীর কিছু বিনিময় দিয়ে তার স্বামী থেকে বিচ্ছেদ লাভ করায় কোন ক্ষতি নেই ৷ এগুলো আল্লাহ নির্ধারিত সীমারেখা, এগুলো অতিক্রম করো না ৷ মূলত যারাই আল্লাহ নির্ধারিত সীমারেখা অতিক্রম করবে তারাই জালেম ৷ (সূরা বাকারাহ,২:২২৯)
৫:৪: তালাকের তৃতীয় স্তর:
فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
অতপর যদি (দু’বার তালাক দেবার পর স্বামী তার স্ত্রীকে তৃতীয় বার) তালাক দেয়, তাহলে ঐ স্ত্রী তার জন্য হালাল হবে না ৷ তবে যদি দ্বিতীয় কোন ব্যক্তির সাথে তার বিয়ে হয় এবং সে তাকে তালাক দেয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে প্রথম স্বামী এবং এই মহিলা যদি আল্লাহর সীমারেখার মধ্যে অবস্থান করতে পারবে বলে মনে করে তাহলে তাদের উভয়ের জন্য পরস্পরের দিকে ফিরে আসায় কোন ক্ষতি নেই৷ এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা ৷ (এগুলো ভংগ করার পরিণতি) যারা জানে তাদের হিদায়াতের জন্য এগুলো সুস্পষ্ট করে তুরে ধরেছেন ৷ (সূরা বাকারাহ,২:২৩০)
৫:৪: তালাকের পরেও পূন: বিবাহের পদ্ধতি:
وَإِذَا طَلَّقْتُمُ النِّسَاءَ فَبَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا تَعْضُلُوهُنَّ أَن يَنكِحْنَ أَزْوَاجَهُنَّ إِذَا تَرَاضَوْا بَيْنَهُم بِالْمَعْرُوفِ ۗ ذَٰلِكَ يُوعَظُ بِهِ مَن كَانَ مِنكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۗ ذَٰلِكُمْ أَزْكَىٰ لَكُمْ وَأَطْهَرُ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ
তোমরা নিজেদের স্ত্রীদের তালাক দেয়ার পর যখন তারা ইদ্দত পূর্ণ করে নেয় তখন তাদের নিজেদের প্রস্তাবিত স্বামীদের সাথে বিয়ের ব্যাপারে তোমরা বাধা দিয়ো না, যখন তারা প্রচলিত পদ্ধতি পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে সম্মত হয় ৷ এ ধরনের পদক্ষেপ কখনো গ্রহণ না করার জন্য তোমাদের উপদেশ দেয়া হচ্ছে, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনে থাকো ৷ এ থেকে বিরত থাকাই তোমাদের জন্য সবচেয়ে পরিমার্জিত ও সর্বাধিক পবিত্র পদ্ধতি ৷ আল্লাহ জানেন কিন্তু তোমরা জানো না ৷ (সূরা বাকারাহ,২:২৩১)
তালাকের জন্য সাক্ষীর প্রয়োজনীয়তা:
উল্লেখ্য যে, সূরায়ে তালাক্ব-এর ২য় আয়াতের وَأَشْهِدُوا ذَوَيْ عَدْلٍ مِّنْكُمْ) ) আলোকে ক্ষেত্রেও দু’জন ন্যায়বান সাক্ষীর শর্ত আবশ্যক।
ছাহাবীগণের মধ্যে হযরত আলী ও ইমরান বিন হুছাইন (রাঃ), তাবেঈগণের মধ্যে আত্বা, ইবনু জুরায়েজ ও ইবনু সীরীন এবং ইমামিয়া শী‘আ বিদ্বান মন্ডলী তালাকের যেরূপ বিবাহের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে।
উপরোক্ত তালাক বিধানে দেখা যাচ্ছে যে, ইসলাম বাধ্যগত অবস্থায় তালাক জায়েয রাখলেও মূলতঃ সেটা তার কাম্য নয়। বরং স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি ও তাদেরকে পুনরায় দাম্পত্য জীবনে ফিরে আসার সকল বৈধ সুযোগ সৃষ্টি করে রেখেছে। তাকে এক মাস, দু’মাস, তিন মাস যাবত চিন্তা করার সুযোগ দিয়েছে। ইদ্দতকালে স্ত্রীকে স্বামীগৃহে অবস্থানের সুযোগ দিয়েছে। সবশেষে দ্বিতীয়বার পর্যন্ত ‘তালাক্ব’ শব্দটি উচ্চারণ করলেও কুরআন ‘তৃতীয় তালাক’ বা ‘তালাক্বে বায়েন’ (বিচ্ছিন্নকারী তালাক) কথাটি উচ্চারণ করেনি। বরং ইঙ্গিতে বলেছে, দ্বিতীয়বার তালাক দেওয়ার পরে এক্ষণে সে তার স্ত্রীকে সুন্দরভাবে রাখুক অথবা সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে বিদায় করুক’।
জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কুরআনে দু’বার তালাক দেবার কথা পাচ্ছি। কিন্তু তৃতীয় তালাক কোথায়? রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, أَوْ تَسْرِيْحٌ بِإِحْسَانٍ ‘অথবা সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে বিদায় করুক’।[ইবনু কাছীর ১/২৭৯-৮০ পৃঃ।]
]অর্থাৎ আল্লাহ চান না যে, বান্দা স্বীয় স্ত্রীকে তৃতীয় তালাক দিক। কেননা তৃতীয় তালাক দিলে সে আর তার স্ত্রীকে ফেরত পাবে না। যতক্ষণ না সে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করে এবং সেই স্বামী তাকে স্বেচ্ছায় তালাক দেয়। আর সেটা নিতান্তই কল্পনার বস্ত্ত।
ইমাম কুরতুবী বলেন, বিদ্বানগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, أَوْ تَسْرِيْحٌ بِإِحْسَانٍ ‘অথবা সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে বিদায় করুক’ দ্বারা দুই তালাকের পরে তৃতীয় তালাক বুঝানো হয়েছে। আর এটা বুঝা গেছে পরবর্তী বক্তব্য فَإِنْ طَلَّقَهَا.... ‘অতঃপর যদি সে তাকে তালাক দেয়’ আয়াতাংশ দ্বারা। অতঃপর বিদ্বানগণ এবিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে এক তালাক অথবা দুই তালাক দিবে, সে ব্যক্তি তাকে ফিরিয়ে নিতে পারবে। কিন্তু যদি তৃতীয়বার তালাক দেয়, তাহ’লে ঐ স্ত্রী তার জন্য আর হালাল হবে না, যতক্ষণ না সে অন্য স্বামীকে বিবাহ করবে’। আর এটিই কুরআনের স্পষ্ট বক্তব্য (محكم القران)। যাতে কারু কোনরূপ মতভেদ নেই’। [তাফসীরে কুরতুবী, বাক্বারাহ,২: ২২৯।]
শেষ কথন:
ইসলামের বিধার অনুসরণ করলে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাকের ঘটনা শূন্যের কোটায় নেমে আসবে। বিয়ে ভেঙ্গে দিয়ে ব্রোকেন সন্তান আর ব্যাভিচারের পথকে উম্মুক্ত করার বিজাতীয় সংস্কৃতি থেকে মুসলিম সমাজকে সুরক্ষা দিতে কুরআন তালাকের জটিল প্রক্রিয়া উপস্থাপন করেছ। তবে প্রয়োজনের জন্য তার ফর্মূলা বাতলে দিয়েছে।


Comments
Post a Comment